নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ সকাল ০৪:২৮:৫৬
ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত ইনকিলাব মঞ্চের
মহান শহীদ দিবস এবং আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসে ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যরা। আজ শনিবার বিকেলে তারা রাজধানীর আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষাশহীদদের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করেন।
কবরস্থান থেকে বের হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের। বায়ান্ন ভাষা আন্দোলনের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘উর্দুর বিপরীতে বাংলার কোনো আন্দোলন হয় নাই। উর্দুকে একমাত্র রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চাপিয়ে দেওয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলন হয়েছে।’
ইনকিলাব, আজাদী, ইনসাফসহ কিছু শব্দের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন জাবের। এ সময় তিনি সংগঠনের আহ্বায়ক ওসমান হাদির হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচার দাবি করেন।
জাবের বলেন, শহীদ ওসমান হাদির হত্যাকাণ্ডের তদন্ত দ্রুত সম্পন্ন করে প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে হবে। এই হত্যার পেছনে কারা রয়েছে, কারা পরিকল্পনা করেছে এবং এখন পর্যন্ত কারা খুনিদের লালন-পালন করে রেখেছে—সরকার সদিচ্ছা দেখালে তা বের করা সম্ভব।
অতীতে দীর্ঘ বিচারহীনতার যে সংস্কৃতি তৈরি হয়েছে, তা ভাঙতে এই হত্যাকাণ্ডের বিচার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে মন্তব্য করেন জাবের।
ওসমান হাদি হত্যার তদন্তে জাতিসংঘের কাছে চিঠি পাঠানো বিষয়ে জাবের বলেন, এ নিয়ে যে যোগাযোগ শুরু হয়েছে, তার আপডেট জনগণ এখনো পায়নি। সরকারকে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ বিষয়ে স্পষ্ট তথ্য জানাতে আহ্বান জানান তিনি।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সমালোচনা করে জাবের বলেন, তারা এ হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে পারেনি। তবে বর্তমান সরকারেরও দায় এড়ানোর সুযোগ নেই বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জাবের বলেন, নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে বিচার নিশ্চিত না হলে ইনকিলাব মঞ্চ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে। শহীদ ওসমান হাদিকে ধারণ করতে হলে তাঁর হত্যার বিচার নিশ্চিত করতেই হবে।
এ সময় ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমাসহ সংগঠনের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর শরিফ ওসমান হাদিকে ঢাকার পল্টন মডেল থানার বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় গুলি করা হয়। গুরুতর আহত অবস্থায় ওসমান হাদিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে তাঁকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। গত ১৫ ডিসেম্বর উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে তাঁকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের ১৪ ডিসেম্বর পল্টন থানায় একটি হত্যাচেষ্টা মামলা করেছিলেন। হাদির মৃত্যুর পর এটি হত্যা মামলায় রূপান্তর করা হয়।